সময়ের দাবী । রুখতেই হবে দুর্নীতি

দুর্নীতি এই দেশের খুব সহজ ও সাবলীল মুখরিত একটি শব্দ মাত্র কোনো অন্যায় বা অবিচার নয়. যদি তাই হতো এই সমাজে দুর্নীতিবাজরা সম্মানের পাত্র অথবা জনগের নেতা হতো না। দেশের পবিত্র সংসদ আজ দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যাবসায়ী, খুনিদের অবয়ারণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিংহ ভাগ সাংসদ দলের ও দলের প্রধানদের সাফাই গাওয়ার দালাল। বর্তমানে যেই দালালরা রাজ করতেছেন তাদের ৬১% শতাংশই হচ্ছে বণিক সম্পদায়ের যারা দলের ও দলের প্রধানের দালালির সঙ্গে নিজেদের বৈদ অবৈধ ব্যবসা কে ও চাঙ্গা করবেন সাংসদীয় ক্ষমতার জুড়ে।

ব্যাংক থেকে বড় অংকের টাকা ঋণ নিবেন নিজের নাম, শালার নাম, শালার শালার নামে, দেশের বিভিন্ন শহরে রাজউক কর্তৃক নির্মিত ফ্লাট নিয়ে দিবেন উনাদের শালীর চাচা শশুরের হমুন্দিরে বা বায়রা ভাইকে। ভূমিহীন গুল্লায় যাক, রাস্তায় যে শুয়ে আছে শুয়ে থাকুন তাতে এমপি/মন্ত্রী সাহেবদের কি এসে যায় যায়? দেশ ও সমাজের মানুষ উনাদের কেউই নয় শুধু সম্পদ উনাদের। দেশের মানুষের ভোট দেয়ার অধিকার ছাড়া আর কিছুই নেই (জনগের সেই ক্ষমতাও অবশিষ্ট নেই),

কারা এরা এত্ত সাহস এদের হয় কি করে? একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাস্তায় মানুষ ঘোমায় কি করে, যে দেশে জনগের টাকায় গাড়িতে এমপি/মন্ত্রী সাহেবরা ওই রাস্তা দিয়ে দাপিয়ে বেড়ায়? আর কত কাল এই লূটেরাদের সামাজিক সম্মান এবং ক্ষমতা বৃদ্বি পাবে?

জাতি কবে এই লুটেরাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে? এই জাতি ততদিন পর্যন্ত জাতীয় লুটেরাদের অস্তিত্ব ধ্বংস করতে পারবে না যতদিন না কোনো দুর্নীতিবাজ দলের, গুষ্টির, দালালি না ছাড়বে, যেদিন এই জাতি দেশের, দশের এবং নিজের ভবিষৎ প্রজম্মের জন্য দালালি করবে সেদিন থেকে প্রশ্নের উদ্ধে সমঅধিকারের একটি স্বপ্নের দেশ তৈরী হওয়া শুরু হবে,

আমাদের সমাজে দুই শ্ৰেণীর মানুষ তৈরি হয় গিয়েছে এক শ্ৰেণী মুনিব এবং ওপর শ্ৰেণী গোলাম। এক পরিবারের ৫জন অর্থের বিনিময়ে সরকারি চাকুরীজীবি অন্য পরিবারের অন্ন যুগাতে টানা পুরোন।

দুর্নীতি কারা করে? জানেন আপনি? আপনি করেন? সমাজের সকল ব্যাক্তি ও বাবা অন্যায় ও দুর্নীতির উদ্ধে সকলে মাটির মানুষ, তুলসী পাতায় দৌত প্রবিত্র আত্মা।

দুর্নীতিবাজদের এত্ত সমৃদ্ধি দেখে আলগা সম্মান না দিয়ে চোখের সামনে তার দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে "দুর্নীতিবাজ" বলতে শিখুন স্পষ্ট করে, বাঙালীর দুর্নীতির দুর্নাম কয়েক বছরের নয় কয়েক দশকের। দেখে নিন দুর্নীতির ইতিহাস ও বর্তমান
২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সালের দুর্নীতির চিত্র 

টানা ৫ বছর বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের বুকে সেরা দুর্নীতিগ্রস্থ একটি রাষ্ট্র

  • ২০০১ সালে প্রথম স্থান
  • ২০০২ সালে প্রথম স্থান
  • ২০০৩ সালে প্রথম স্থান
  • ২০০৪ সালে প্রথম স্থান
  • ২০০৫ সালে প্রথম স্থান
  • ২০০৬ সালে তৃতীয় স্থান
  • ২০০৭ সালে সপ্তম স্থান
  • ২০০৮ সালে দশম স্থান
  • ২০০৯ সালে ১৩তম স্থান
  • ২০১২ সালে ১৩তম স্থান
  • ২০১৩ সালে ১৬তম স্থান
  • ২০১৪ সালে ১৪তম স্থান
  • ২০১৫ সালে ১৩তম স্থান
  • ২০১৬ সালে ১৫তম স্থান
  • ২০১৭ সালে ১৭তম স্থান
  • ২০১৮ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম স্থানে

TIB Corruption index

স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পরে বিএনপি সরকার ঘটন করে এবং বিএনপি সরকারের ১৯৯১-১৯৯৬ সন পর্যন্ত শাসনামলে বাংলাদেশের আনুমানিক দুর্নীতির পরিমাণ অর্থে ছিল ৯ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা।

১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা কালে বাংলাদেশের আনুমানিক দুর্নীতির পরিমাণ অর্থে ছিল ১৬ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা।

২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে বাংলাদেশের আনুমানিক দুর্নীতির পরিমাণ লাগাম ছাড়া উর্দ্ধ গতিতে বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকায়। যার পরিমান গত ৫ বছরের ব্যাবধানে প্রায় ২গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

উদয় হয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। ২০০৮ সালে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে দেখা যায়, ১৮০টি দেশের মধ্যে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০ম।

২০০৯-২০১৩ শাসনামলে আগের সব সংখ্যাকে ডিঙিয়ে দেশে আনুমানিক দুর্নীতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা! যার পরিমান গত ১০ বছরের ব্যাবধানে প্রায় ৮ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতির সিংহ ভাগ আজ দালালে পরিণত হয়েছেন কেউ বিএনপি পরিবারের দালালি করছেন কেউ আওয়ামীলীগ পরিবারের দালালি করছেন।

দুই পরিবারের দুই জন মহান ব্যাক্তিত্বের গৌরব এ দেশের মানুষের হৃদয় ও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার শক্তি আধো কোনো গুষ্টির হয়নি সুদূর ভবিষ্যতে ও হবে না. কল্যাণ কারিনদের দুনিয়া ভুলে না হৃদয়ে বহন করে।

মহান ব্যাক্তিত্বের উত্তরসূরিরা আজ বিশ্ব সেরা দুর্নীতিবাজে পরিণত হয়েছে এদেরকে বর্জন করা হোক, দেশ ও জাতির কল্যানে। আগামী প্রজন্মের বাক স্বাধীনতার কল্যানে।
সময়ের দাবী । রুখতেই হবে দুর্নীতি সময়ের দাবী । রুখতেই হবে দুর্নীতি Reviewed by জননী এগ্রো / নৈতিক কলাম on জুলাই ২৫, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.